এই সংস্থার নাম খাদেমুল ইনসান ট্রাস্ট। এটি একটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও জনকল্যাণমূলক ইসলামিক দাতব্য সংস্থা।
‘খাদেমুল ইনসান’ অর্থ ‘মানুষের সেবক’। এই নামের মধ্য দিয়েই আমাদের মূল দর্শন প্রকাশ পায় — মানুষের সেবার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা।
আমরা বিশ্বাস করি, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের দান ও সহযোগিতা যদি সততা ও স্বচ্ছতার সাথে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তবে অভাব, অশিক্ষা ও অসহায়ত্ব অনেকাংশে দূর করা সম্ভব।
উদ্দেশ্য
খাদেমুল ইনসান ট্রাস্টের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ:
অসহায়, দরিদ্র ও অভাবী মানুষের মৌলিক প্রয়োজনে (খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়) সহায়তা করা।
এতিম, বিধবা ও অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সম্মানজনক জীবনযাপনে সহায়তা করা।
শিক্ষা-বঞ্চিত ও মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সহায়তা ও বৃত্তি প্রদান করা।
অসুস্থ ও চিকিৎসা-বঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসা।
বন্যা, শীত, দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা।
নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থায় সহায়তা করা।
কর্মক্ষম অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করতে জীবিকা-ভিত্তিক সহায়তা দেওয়া।
নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, সামাজিক সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা ছড়িয়ে দেওয়া।
প্রতিটি দান ও ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ ও প্রকাশের মাধ্যমে দাতাদের আস্থা অর্জন করা।
মূলনীতি
আমাদের সকল কার্যক্রম নিচের মূলনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়:
আমানতদারি: প্রতিটি দান একটি আমানত — যে উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে, সেই উদ্দেশ্যেই ব্যয় করা হবে।
সততা: সকল লেনদেন ও সিদ্ধান্তে সততা বজায় রাখা।
স্বচ্ছতা: অনুমোদিত আয়-ব্যয়ের হিসাব ওয়েবসাইটে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা।
জবাবদিহিতা: প্রতিটি ব্যয় যাচাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে এবং রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে।
শরিয়াহ-সম্মত ব্যবস্থাপনা: যাকাত ও সদকার তহবিল আলাদাভাবে হিসাব করা হবে এবং নির্ধারিত খাতেই ব্যয় হবে।
অরাজনৈতিকতা: সংস্থা কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের অধীনে পরিচালিত হবে না।
মানবিক মর্যাদা: সহায়তা গ্রহণকারীর সম্মান ও গোপনীয়তা রক্ষা করা।
সদস্য হওয়ার শর্ত
খাদেমুল ইনসান ট্রাস্টের সদস্য হতে হলে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:
প্রাপ্তবয়স্ক হতে হবে এবং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে।
ভালো নৈতিক চরিত্র ও সামাজিক সুনামের অধিকারী হতে হবে।
সংস্থার উদ্দেশ্য, মূলনীতি ও গঠনতন্ত্র মেনে চলার অঙ্গীকার করতে হবে।
ওয়েবসাইটের ‘সদস্য হন’ ফরম সঠিক তথ্যসহ পূরণ করে আবেদন করতে হবে।
নির্বাহী কমিটি আবেদন যাচাই করে অনুমোদন দিলে সদস্যপদ কার্যকর হবে।
আবেদন অনুমোদিত হলে আবেদনকারীকে একটি সদস্য আইডি প্রদান করা হবে।
সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য
সংস্থার গঠনতন্ত্র, নিয়মনীতি ও সিদ্ধান্ত মেনে চলা।
সংস্থার সুনাম রক্ষা করা এবং এমন কোনো কাজ না করা যা সংস্থার ক্ষতি করে।
সাধ্যমতো আর্থিক, শারীরিক ও পরামর্শগত সহযোগিতা করা।
সংস্থার কার্যক্রমে অংশ নেওয়া এবং সভায় উপস্থিত থাকার চেষ্টা করা।
সংস্থার নামে অনুমতি ছাড়া কোনো অর্থ সংগ্রহ বা লেনদেন না করা।
সহায়তা গ্রহণকারীদের গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা করা।
নিজের যোগাযোগের তথ্য হালনাগাদ রাখা।
সাংগঠনিক কাঠামো
সংস্থার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নিম্নরূপ কাঠামো থাকবে:
সাধারণ পরিষদ: সংস্থার সকল অনুমোদিত সদস্য নিয়ে গঠিত। এটি সংস্থার সর্বোচ্চ সিদ্ধান্তগ্রহণকারী সংস্থা।
নির্বাহী কমিটি: সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও অন্যান্য কর্মকর্তা নিয়ে গঠিত। দৈনন্দিন কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনা করে।
উপদেষ্টা পরিষদ: অভিজ্ঞ ও শুভানুধ্যায়ী ব্যক্তিবর্গ, যারা পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেন।
স্বেচ্ছাসেবক দল: মাঠপর্যায়ের কাজে সহযোগিতাকারী স্বেচ্ছাসেবকগণ।
বর্তমান কমিটির সদস্যদের তালিকা ‘কমিটি’ পেজে দেখা যাবে।
কেন খাদেমুল ইনসান ট্রাস্ট?
আপনার দান আমানত। তাই আমরা চেষ্টা করি এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যেখানে আপনি নিশ্চিন্তে দান করতে পারেন:
খোলা হিসাব: অনুমোদিত আয়-ব্যয়ের মোট হিসাব সরাসরি লেনদেন থেকে গণনা হয় এবং ‘আর্থিক স্বচ্ছতা’ পেজে সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে — হাতে বসানো কোনো সংখ্যা নেই।
আলাদা তহবিল: যাকাত, সদকা ও নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের দান আলাদা তহবিলে হিসাব করা হয়।
যাচাই-করা দান: প্রতিটি দান যাচাইয়ের পর অনুমোদিত হয় এবং দাতাকে রসিদ দেওয়া যায়।
অনুমোদন-ভিত্তিক ব্যয়: খরচ অনুমোদনের পরই হিসাবে যুক্ত হয়।
ডিজিটাল রেকর্ড: সদস্য, স্বেচ্ছাসেবক, দান ও ব্যয়ের তথ্য নিরাপদে সংরক্ষিত থাকে।
নিয়মিত প্রতিবেদন: কার্যক্রমের ছবি, সংবাদ ও আর্থিক প্রতিবেদন নিয়মিত প্রকাশ করা হয়।
কার্যক্রম
খাদেমুল ইনসান ট্রাস্ট সামর্থ্য ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিচের ক্ষেত্রগুলোতে কাজ করে:
খাদ্য ও দরিদ্র পরিবার সহায়তা
এতিম ও বিধবা সহায়তা
শিক্ষা সহায়তা ও বৃত্তি
চিকিৎসা সহায়তা
শীতবস্ত্র বিতরণ ও মৌসুমী সহায়তা
জরুরি ত্রাণ ও দুর্যোগ সহায়তা
নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন
জীবিকা ও স্বাবলম্বীকরণ সহায়তা
রমজান ও কোরবানির মৌসুমে বিশেষ কার্যক্রম
স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য: ত্রাণ বিতরণ, তথ্য সংগ্রহ, যোগাযোগ, ছবি ও প্রতিবেদন তৈরি, তহবিল সংগ্রহে সহায়তা — যে কোনো ক্ষেত্রে আপনার সময় ও দক্ষতা কাজে লাগতে পারে। ‘স্বেচ্ছাসেবক হন’ ফরমে আপনার আগ্রহের কথা জানান।
সাধারণ নিয়মনীতি
সংস্থার সকল আর্থিক লেনদেন নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও রেকর্ডের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
কোনো সদস্য বা কর্মকর্তা ব্যক্তিগত স্বার্থে সংস্থার অর্থ বা সম্পদ ব্যবহার করতে পারবেন না।
দাতার নির্ধারিত উদ্দেশ্যে দেওয়া অর্থ সেই উদ্দেশ্যেই ব্যয় করতে হবে।
সহায়তা প্রদানে প্রকৃত প্রয়োজন যাচাই করা হবে এবং প্রাপকের গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে।
সংস্থার নাম, লোগো ও পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
সংস্থার সকল সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে গৃহীত হবে।
সভা ও সিদ্ধান্ত
নির্বাহী কমিটি প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত সভায় মিলিত হবে এবং সভার সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে সংরক্ষণ করবে।
বছরে অন্তত একবার সাধারণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বার্ষিক কার্যক্রম ও আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হবে।
জরুরি প্রয়োজনে সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বিশেষ সভা আহ্বান করতে পারবেন।
তহবিল ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা
আয়ের উৎস: সাধারণ দান, যাকাত, সদকা, সদকায়ে জারিয়া, সদস্যদের চাঁদা ও অনুদান, এবং বিভিন্ন প্রকল্প ও ক্যাম্পেইনের জন্য প্রাপ্ত দান।
প্রতিটি দান নির্দিষ্ট তহবিলে (যেমন যাকাত, সদকা, এতিম সহায়তা) জমা ও হিসাব করা হবে।
যাকাত শুধুমাত্র শরিয়াহ-নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা হবে।
সীমাবদ্ধ (নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যের) তহবিলের অর্থ শুধু সেই উদ্দেশ্যেই ব্যয় হবে।
প্রতিটি ব্যয়ের ভাউচার ও প্রমাণ সংরক্ষণ করা হবে এবং অনুমোদনের পরই তা হিসাবে যুক্ত হবে।
ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হবে।
আর্থিক প্রতিবেদন নিয়মিত তৈরি করে ‘আর্থিক স্বচ্ছতা’ পেজে প্রকাশ করা হবে।
শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা
কোনো সদস্য গঠনতন্ত্র বা নিয়মনীতি লঙ্ঘন করলে বা সংস্থার সুনামের ক্ষতি করলে নির্বাহী কমিটি বিষয়টি তদন্ত করবে। অভিযুক্ত সদস্যকে নিজের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
সতর্কীকরণ
সাময়িক সদস্যপদ স্থগিত
সদস্যপদ বাতিল
আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হলে ক্ষতিপূরণ আদায় ও আইনগত ব্যবস্থা
গঠনতন্ত্র সংশোধন
এই গঠনতন্ত্রের কোনো ধারা সংশোধন, সংযোজন বা বাতিল করতে হলে নির্বাহী কমিটির প্রস্তাব সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থাপন করতে হবে এবং উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনে তা গৃহীত হতে হবে।
সংশোধিত গঠনতন্ত্রের নতুন সংস্করণ নম্বরসহ এই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।